পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুর সদর উপজেলার ৭৭ নম্বর করিমুন্নেছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক দোলা সর্বন-এর বিরুদ্ধে কর্মস্থলে মানসিক হয়রানি, মিথ্যা অপপ্রচার ও সামাজিক মর্যাদাহানির চেষ্টার তীব্র অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী ও কুচক্রী মহল তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক দোলার চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছিলেন। পরবর্তীতে পিটিআই ট্রেনিং চলাকালে পায়ে চোট পান এবং ২০২৩ সালে মারাত্মক জটিল ও বিরল স্নায়ু-পেশিজনিত ব্যাধি ‘পলিমায়োসাইটিস’ (Polymyositis / Inflammatory Myopathy)-এ আক্রান্ত হন।
চিকিৎসার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে কম্বাইন্ড মিলিটারী হাসপাতাল (CMH) বরিশালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (ICU) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর রক্তে পেশি ভাঙনের সূচক Serum CPK-এর পরিমাণ অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে ১৫,৯৩৫ U/L-এ পৌঁছায়, যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর জন্য স্বাভাবিক মাত্রা হলো ২৪ থেকে ১৭০ U/L। পরবর্তীতে অর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজি (AFIP), ঢাকা সেনানিবাসে মাংসপেশির বায়োপসি (Muscle Biopsy) পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর শরীরে ‘পলিমায়োসাইটিস’ রোগ চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা হয়।
তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসক এবং পরবর্তীতে ভারতের চেন্নাইয়ের আপোলো স্পেশালিটি হসপিটালস (Apollo Specialty Hospitals, Greams Road, Chennai)-এর নিউরোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কনসালটেন্ট ডা. সোমসুন্দরম এ সি (Dr. Somasundaram A C)-এর অধীনে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি চেন্নাই আপোলোর পরামর্শ অনুযায়ী স্নায়ুবিক যন্ত্রণা ও পেশির অক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের জন্য Tapriga-ER 50 (Tapentadol) এবং Pregaba-M 75 (Pregabalin + Methylcobalamin)-এর মতো উচ্চমাত্রার ওষুধ নিয়মিত সেবন করছেন।
অসুস্থতা কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পর শারীরিক চরম দুর্বলতার কারণে তিনতলা বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবনে সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা তাঁর জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এ বিষয়ে নিচতলায় ক্লাস নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ তা তোয়াক্কা করেনি। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর এই জটিল শারীরিক অসুস্থতাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে একটি গোষ্ঠী পেশাগত ও ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি গণমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক দোলা বলেন, “আমার চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রামাণিক কাগজপত্র এবং চেন্নাই আপোলো হাসপাতালের প্রেসক্রিপশনই প্রমাণ করে আমি কী পরিমাণ জটিল শারীরিক লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এর পরও আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।”
একজন জটিল ও গুরুতর ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষকের প্রতি সহমর্মিতা না দেখিয়ে এ ধরনের অপপ্রচারের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকবৃন্দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক এই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে তিনি সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।