1. dainiksangbadbangla24@gmail.com : sahin@admin :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পিরোজপুরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ছাত্রদলের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: ২ জন গুরুতর জখমসহ আহত ৫, আটক ১ পিরোজপুর পৌরসভার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে শহরের ভারানি খাল পরিস্কার গার্মেন্টস ও হকার সংকট: কোন পথে এগোচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি? পিরোজপুরে অসুস্থ নারী শিক্ষককে হয়রানি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ পিরোজপুরে আর্সেনাল ক্লাবের উদ্যোগে ১৬ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হলেন পিরোজপুরের এলিজা জামান জিয়ানগরে ৫২ বছর পর সরকারি জমির ফসল উদ্ধার করলেন ইউএনও, নিলামে বিক্রি করে কোষাগারে জমা ১.৪২ লাখ টাকা পিরোজপুরে ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’ উদযাপিত: বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও যুব মেলার উদ্বোধন পিরোজপুর জেলা পরিষদ উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল বোর্ডে সেরা পিরোজপুর, পাসের হার ৫১.৫৫%

গার্মেন্টস ও হকার সংকট: কোন পথে এগোচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি?

  • সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৪৫ জন দেখেছেন


সৌরভ খান সুজন
গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে পুলিশ ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের যেভাবে নিপীড়ন ও দমন-পীড়নের অভিযোগ সামনে আসছে, তাতে পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দমনের চেষ্টা করা হলে তা কোনো বিচ্ছিন্ন শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করবে।
অন্যদিকে, হকার উচ্ছেদ অভিযানও এখন সরকারের জন্য একটি জাতীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনা ও জনভোগান্তি নিরসনের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও লাখ লাখ মানুষের জীবিকা উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না। এই সংকটের সমাধান হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা, পুনর্বাসন এবং বাস্তবসম্মত নীতিমালার মাধ্যমে। কিন্তু বিএনপি সরকার আলোচনার পথ বেছে না নিয়ে যদি ধারাবাহিক সংঘাতের পথে এগোয়, তাহলে তার রাজনৈতিক মূল্যও দিতে হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গার্মেন্টস শ্রমিক ও হকারদের ক্ষোভ যদি একই রাজনৈতিক অসন্তোষের জায়গায় এসে মিলিত হয়, তাহলে তা সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর সঙ্গে আওয়ামী লীগ যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আন্দোলনগুলোতে রাজনৈতিক মদদ জোগায়, তাহলে এই অসন্তোষ আরও বিস্তৃত ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হয়ে উঠতে পারে।
ইতিহাস বলে, কোনো সরকারের পতন কেবল বিরোধী দলের আন্দোলনে ঘটে না; বরং জনঅসন্তোষ, শ্রমিক অসন্তোষ, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক বিরোধ যখন একই বিন্দুতে মিলিত হয়, তখন ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ে।
বিএনপি সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—দমন-পীড়নের রাজনীতি পরিহার করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করা। অন্যথায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন ও হকার উচ্ছেদবিরোধী ক্ষোভ একসময় সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নিতে পারে। আর সেই পরিস্থিতি তৈরি হলে বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকা নিয়েও বড় ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, বিএনপি সরকার কি সময় থাকতে পরিস্থিতির রাজনৈতিক গুরুত্ব বুঝবে, নাকি নিজেদের সিদ্ধান্ত ও সংঘাতের রাজনীতির মধ্য দিয়েই সরকার পতনের ঝুঁকি তৈরি করবে?

লেখক
রাজনৈতিক বিশ্লেষক,শ্রমিক নেতা

শেয়ার করুন

একই ক্যাটেগরির আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ত সংরক্ষিত দৈনিক সংবাদ বাংলা ২০২৬
Developed By ByteMatrix Lab